Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

অন্যান্য খাতভিত্তিক রাজস্ব প্রশাসন

অন্যান্য খাতভিত্তিক রাজস্ব প্রশাসন

রাষ্ট্রপতির মতাবলে কমিশনারের অধীনে জেলা প্রশাসনের কালেক্টরগণের পরিবর্তন হয়। সাধারণ প্রশাসনিক কাজের জন্য পুরা জেলাকে বিভাজিত করে ৫টি উপবিভাগের (মহকুমার) সৃষ্টি করা হলো। উপবিভাগগুলো হল- যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল এবং বনগাঁও। সাব ডিভিশনের হেড কোয়ার্টার ছিল যশোর এবং সেখান থেকে সরাসরি কালেক্টরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত। হেডকোয়ার্টারে কালেক্টরের অধীনে পাঁচজন ডেপুটি কালেক্টর এবং এক বা দুইজন সাব ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। অপরদিকে ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল এবং বনগাঁও সাবডিভিশনে একজন করে সাব-ডিভিশনাল অফিসার ছিল। সাব ডিভিশনাল অফিসারগণ সাব ডেপুটি কালেক্টরের অধীনে ছিলেন। ১৮৮৩-৮৪ সালে জেলার প্রধান খাত হতে ১৪,৯৬,০০০ রুপি রাজস্ব আদায় হয়েছে। বনগাঁও সাবডিভিশন নদীয়া জেলা হতে ১৮৮৩ সালে স্থানামত্মরিত হয়। তথন ১৮৯০-৯১ সালে রাজস্ব আয় ছিল ১৫,৪২,০০০ রুপি এবং ১৯০০-০১ সালে ছিল ১৬,৯২,০০০ রুপি। ১৯১০-১১ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৭,৯৯,৮৬০ রুপি। এর মধ্যে ভূমি থেকে রাজস্ব এসেছে ৮,৭৩,৯১৭ রুপি। স্টাম্প থেকে এসেছে ৫,৬৬,৯৯৪ রুপি, ট্যাক্স থেকে এসেছে ২,১২,৪২২ রুপি, আমত্মশুল্ক থেকে এসেছে ১,০৬,২৭৪ রুপি এবং আয়কর থেকে এসেছে ৪১৪,২৪৯ রুপি।

ভূমি থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১৮৮৩-৮৪ অর্থবছরে ছিল ৮,৩৪,০০০ রুপি যা ১৮৯০-৯১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়াল ৮,৬৯,০০০ রুপি। কিন্তু ১৯০০-০১ অর্থবছরে রাজস্ব কমে হল ৮,৬০,০০০ রুপি। ১৯১০-১১ অর্থবছরের জেলার অর্ধেক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৮,৭৩,৯১৭ রুপি। ২,৬৪৮ টি স্টেটের নিকট রাজস্ব চাহিদা ছিল ৪,৬৭,১৭৭ রুপি এবং এর মধ্যে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত ২,৫৮১ টি স্টেটের কাছ থেকে রাজস্ব চাহিদা ছিল ৮,৫৭,৩৫২ রুপি।

স্ট্যাম্প বিক্রি

ভূমি রাজস্বের পর সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়ের খাত ছিল স্ট্যাম্প বিক্রি। ১৮৯৫-৯৬ অর্থবছরে স্ট্যাম্প বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪,৫৩,০৩৪ রুপি। ১৮৯৯-১৯০০ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৪,৪৭,৯২৮ রুপি এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হত। ১৯০৪-০৫ অর্থবছর পর্যন্ত গত বছরে গড়ে ৪,৮১,৪৭৪ রুপি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ১৯০০-০১ অর্থবছরে আদায়ের পরিমাণ ৪,৭৭,৮২৫ রুপি হলেও ১৯০০-১১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাড়াল ৫,৬৫,৯৯৪ রুপি। জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প থেকে ১৯১০-১০ অর্থবছরে রাজস্ব এসেছে ৪,৬০,১৭০ রুপি। মামলা মোকদ্দমা বৃদ্ধির কারণেই জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি বেশি হয়েছে, রাজস্বও এসেছে বেশি।

পাবলিক কাজের উপর কর ধার্য

রাসত্মা এবং পাবলিক কাজের জন্য এক রুপি ১ আনা কর ধার্য ছিল। ১৯০১-০২ অর্থ বছরে রাজস্ব এসেছে ২,০০,৪৬২ রুপি যা ১৯১০-১১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২,১২,৪২২ রুপি। ১৯০০-০১ অর্থবছরে সরকারের এ খাতে রাজস্ব আদায়ের মাত্রা ছিল ২,০১,৬৯৩ রুপি যা ৩,৪৬৩ টি স্টেট থেকে ৪,২৯৯ রুপি, ১১,০৮৭ করমুক্ত ভূমি থেকে ২৩,৮৩০ রুপি এবং ২০৬টি হাট-বাজার থেকে ২,৯৯৯ রুপি রাজস্ব আদায়ের সমষ্টি। কর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২,৫৪,৭০৪ রুপি।

শুল্ক আদায়

শুল্ক সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্য একটা গুরম্নত্বপূর্ণ উৎস ছিল। শুল্ক থেকে সরকার তার রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব খাতে বড় অবদান রাখতে পারত। ১৯০০-০১ অর্থবছরে শুল্ক থেকে প্রায় ১,০২,৪৮২ রুপি রাজস্ব খাতে জমা হয়েছে। ১৯১০-১১ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাড়ায় ১,০৬,২৭৮ রুপি। পরবর্তী বছরগুলোতে রাজস্ব খাতে শুল্ক থেকে আয় হয়েছে ১০,০০০ লোকের বিপরীতে ৫৪৪ রুপি হারে।

গাঁজা ও স্প্রিটের উপর রাজস্ব

শুল্ক থেকে মোট যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হত তার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ আসত গাঁজার লাইসেন্স ফি থেকে। গাঁজার পরে রাজস্ব আয়ের আরেকটি উলে­খযোগ্য উৎস ছিল দেশীয় স্প্রিট। দেশীয় স্প্রিট বিক্রি করে ১৯১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ৩৮,১৯৭ রুপি রাজস্ব আয় হয়েছে। ১৯০৬ সালে স্প্রিটের চুক্তিভিত্তিক সাপ্লাই শুরু হয়। স্প্রিটের লোকাল ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানী নিষিদ্ধ করা হয়। ঠিকাদাররা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্প্রিট বিক্রির জন্য লাইসেন্স দিত। কিন্তু সরকার এই পদ্ধতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়। ১৯১০-১১ সালের দিকে প্রায় ৪৪টি দোকান থেকে স্প্রিট বিক্রির লাইসেন্স প্রদান করা হয়। প্রতিটি দোকান ৬৬ মাইল দূরত্বের মধ্যে ছিল এবং ৩৯,৯৬০ জনের জন্য একটি দোকানের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এক হাজার লোকের জন্য প্রমাণ-গ্যালনের দুই গ্যালন মদ লাগত। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট ছিল যে যশোরে মাদকাসক্তের সংখ্যা যথার্থই কম ছিল। বালাসোর প্রদেশ বাদে অন্য যে কোন জেলার চেয়ে যশোরে স্প্রিট এর লাইসেন্স ফি এবং ‘তারী’(দেশী মদ) ব্যবহারের পরিমাণ কম ছিল।

আফিমের উপর রাজস্ব

‘আফিম’ থেকে প্রতি ১০,০০০ লোকের জন্য ১৬০ রুপি হারে ১৯১০-১১ অর্থবছরে ২৪,২০৬ রুপি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তখন ৫৬টি দোকানে অফিম বিক্রির অনুমতি ছিল। ঠিক গাঁজা বিক্রির শর্তের সাথে মিল রেখে আফিমের ব্যবসা করার জন্য ৫২ বর্গ কিলোমিটার দূরে দূরে ৩১,৩৯৮ জনের জন্য একটি দোকান বরাদ্দ ছিল। ১৮৯৬-৯৭ সালে ২,৩২৫ জনের আয়কর থেকে সরকারের রাজস্ব আসত ৪৬,৬৫৯ রুপি। ঐসময়ে আয়কর দেয়ার জন্য আয়ের সীমা ছিল ৫০০ রুপি। ১৯০৩ সালে আয়কর প্রদানের জন্য আয়ের সীমা ১০০০ রুপি করা হল। এর ফলে খুচরা ব্যবসায়ী, মানি- লেন্ডার এবং ক্লার্কেরা আয়কর প্রদানের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেল। ১৯০৩-০৪ সালে আয়কর দেয়ার যত লোকের সংখ্যা কমে দাড়াল ৭২৯ জন। আর সরকারের আয় হয়েছিল ৩৬,১৭৮ রুপি। কিন্তু ১৯১০-১১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাড়াল ৮১৬ জন।

রেজিস্ট্রেশন

১৮৭৭ সালের IIIনং আইনের অধীনে বীমা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২৬টি অফিস তালিকাভুক্ত ছিল। যশোর জেলার সাব-রেজিস্টার রেজিস্ট্রি সংখ্যার বিষয়াদি দেখভাল করতেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কাজ-কর্ম তদারকি করতেন। ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিক্রমায় প্রতি বছরে ৮২,৬৯৯ টি ডকুমেন্ট রেজিস্ট্রি করা হত। পরবর্তী পাঁচ বছরে (১৯০০-০৪) রেজিস্ট্রি বেড়ে দাড়াল ৯১,২৩৭টি। পরবর্তী পাঁচ বছরে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে দাড়াল ১,০০,৭২১ টিতে। রেজিস্ট্রেশন করতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্যই রেজিস্ট্রি সংখ্যা এতোটা বেড়ে যায়। ১৯১০ সালের দিকে এসে এ সংখ্যা কমে দাড়াল মাত্র ৯৬,৭৬৩ তে। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সাইক্লোনের আঘাত হানার ফলে রেজিস্ট্রি সংখ্যা কমে যায়। অন্য একটা কারণ হল ঐ সময় শস্য উৎপাদন ছিল খুবই কম।