মেনু নির্বাচন করুন

নানা রঙের ফুলের মেলা খেজুর গুড়ের যশোর জেলা

ডাউনলোড ব্র্যান্ড বুক

ছবিতে জেলা ব্র্যান্ডিং


বিস্তারিত


ইমাম বারা

সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩০০ বছরের পুরনো মুরালি ইমাম বারা। এটি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন। ইট দিয়ে নির্মিত আয়তাকার ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে ৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৫০ ফুট যা ভেতরের অংশে ১০টি পিলার দিয়ে তিন সারিতে বিভক্ত। পিলারের পলেস্তরার ওপর কালো কালি দিয়ে আরবি লিপিতে লেখা দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে।

যশোর বিমান বন্দর

১৯৪২ সালে বৃটিশরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে যশোরে বিমান ঘাঁটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১৯৪৬ সালে ২২৫ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় যশোর বিমান বন্দর। ভারত ভাগ হলে ১৯৫০ সালে যশোরে পাকিস্তান সেনা বাহিনী ও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করে। তবে যশোরে পূর্নাঙ্গ বিমানবন্দর চালু হয় ১৯৬০ সালে। বর্তমানে বেসরকারি ৪টি বিমানের ফ্লাইট রয়েছে এই বন্দরে।

মুখবন্ধ

রূপবৈচিত্রময় প্রিয় মাতৃভূমির নাম বাংলাদেশ।এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে স্বতন্ত্র মাটির গুণ,পণ্য,স্থান,নিদর্শন,ভাষা,জীবনাচরণ। বৈচির্ত্যময় এসব স্বতন্ত্র  সত্তা হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতির এক অপার সম্ভাবনার হাতিয়ার। বর্তমান সরকারের নতুন নতুন উদ্ভাবনী চেতনার মধ্যে প্রতিটি জেলায় স্বতন্ত্র পণ্য বা সম্ভাবনাময় ঐতিহ্যকে র্ব্যান্ডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বেময় ছড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারি উদ্যোগ। জেলা র্ব্যান্ডিং কার্যক্রমের সফলতা ভিশন ২০২১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এবং ভিশন ২০৪১ অর্জনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।  জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর লক্ষ্যমাত্রা ৫-লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সব নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন করা;লক্ষ্যমাত্রা ৮-উপযুক্ত কর্ম এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;লক্ষ্যমাত্রা ৯-সবার জন্য দীর্ঘমেয়দি, অর্ন্তভুক্তমিূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনশীল ও উপযুক্ত কাজের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং লক্ষ্যমাত্রা ১২-দায়িত্বপূর্ণ  ভোগ ও উৎপাদনের ধরন নিশ্চিত অর্জনে জেলা ব্রান্ডিং কার্যক্রম ব্যতিক্রমীভাবে অবদান রাখতে পারে।    

জলোর সকল স্তররে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জলো ব্রান্ডিং র্কাযক্রম র্কাযকরভিাবে বাস্তবাওয়ন করা সম্ভব হলে উক্ত টকেসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা র্অজনে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম হব। এক্ষেত্রে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমি জেলা র্ব্যান্ডিং কর্মযজ্ঞে সর্বস্তরের যশোর বাসির সহযোগিতা কামনা করি।

জেলা ব্রান্ডিং প্রকাশনা যশোরকে ভিন্নভাবে বিশ্ববাসীর নিকট উপস্থাপন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সৃষ্টিশীল এ কাজে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মেধা ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম কে যারা সময় সময় র্ব্যান্ডবুক তৈরির দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রকাশনাটি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে প্রণয়নে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এরপরেও যদি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থেকে থাকে তার জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি।  

জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখেই নানা রঙের ফুল এবং খেজুর গুড় যশোর জেলার ব্রান্ডংিনির্বাচন করা হয়েছে। আমি যশোর জেলা ব্রান্ডিং কার্যক্রমের সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করি।

মুক্তযিুদ্ধে যশোর

দশেরে প্রথম শত্রুমুক্ত জলো যশোর.৬ ডসিম্বের ১৯৭১ সালে পাকস্তিানী হানাদার বাহনিী যশোরে পরাজতি হয়। ৬ ডিসেম্বর সকালে ও দুপুরে দুই দফায় প্রচন্ড লড়াই হয় ভারতীয় ৯ম পদাতিক ও ৪র্থ মাউন্টেন ডিভিশনের সাথে পাকস্তিানী ৯ম ডিভিশনের। সুরক্ষিত পাক দুর্গ বলে খ্যাত যশোর ক্যান্টনমেন্টে পর্যাপ্ত সৈন্য না থাকায় পাকস্তিানী সেনারা হতোদ্যম হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালাতে থাকে। মুখোমুখি সে যুদ্ধে পাকসেনাদের অবস্থান ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্টের ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে আফরায়। বাংলাদেশের ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তরে গরিবপুরে মিত্র বাহিনী অবস্থান নেয়। আফরার প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ায় পাকসেনাদের পালানো ছাড়া গত্যন্তর থাকে না এবং পাক বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে খুলনায় পালিয়ে যায়। মুক্ত হয় যশোর।

 

ফুল চাষের গোড়াপত্তন

 ফুল এবং বাঙালীর জীবন এক অবচ্ছিদ্যে  সুতোয় গাথা। রুচশিীল বাঙালি মাত্রই বাড়রি আঙনিায় ফুল বাগানরে সমারোহ। কন্তিু ফুলচাষ যে বাড়রি আঙনিা ছড়েে বাণজিকি সাফল্য লাভও করতে পারে তা বাংলাদশেে প্রথম পরলিক্ষতি হয় যশোর জলোয়। মূলত আশরি দশকরে শুরুতে বাণজ্যিকভাবে যশোরে ফুল চাষ শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে প্রথম ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি গ্রামের শের আলী  ভারত থেকে বীজ এনে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ শুরু করেন। শের আলীর সেই গদখালি গ্রামই এখন যশোরের ফুল চাষের রাজধানী। এখানে প্রতিদিন ভোরে ফুলের হাট বসে। পাইকারী ফুল ব্যবসায়ীরা এই হাট থেকে ফুল কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। যশোরের উৎপাদিত ফুল চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের ৫৪ টি জেলায়।  দেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার ঢাকার শাহবাগের বেশির ভাগ ফুলের যোগান যশোর থেকে দেয়া হয়।  বাণিজ্যিক ভাবে  চাষ হচ্ছে গোলাপ , গাঁদা, রজনীগন্ধা , জারবেরা,  গ্লাডিওলাস, চন্দ্র মল্লিকা, লিলিয়াম, বেলি জিপসি  এর মত নানান জাতের ফুল। যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা, যশোর সদর , মনিরামপুর, কেশবপুর ও চৌগাছা উপজেলার প্রায় একশো  গ্রামে প্রায় ৩  হাজার  হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় চারশো কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হচ্ছে। তালিকাভুক্ত সাত হাজার ফুল চাষি হলেও ফুল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দুই প্রায়  লাখ মানুষ। যশোররে ফুলরে খ্যাতি দশেরে গন্ডি পড়েয়িে জায়গা করে নয়িছেে আর্ন্তজাতকি পরমিন্ডল। একাধকি ফুল চাষি পয়েছেনে জাতীয় ও আর্ন্তজাতকি স্বীকৃত। এদরে মধ্যে  ফুলচাষে জাতীয় প্রাপ্ত কয়কেজন নারী ফুলচাষওি রয়ছেনে।

যশোররে গুড়

যশোররে শত শত বছররে ইতহিাস ঐতহ্যিরে সঙ্গে জড়য়িে রয়ছেে খজেুররে রস, গুড় ও পাটাল। ঐতিহাসিক সতীশ চন্দ্র মিত্রের যশোর খুলনা ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯০০-১৯০১ সালে পূর্ব বঙ্গে খেঁজুরের গুড় তৈরি হয়েছে ২১ লাখ ৮০ হাজার ৫৫০ মণ। এর মধ্যে শুধু মাত্র যশোরেই তৈরি হয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ মণ গুড়। ১৮৬১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ হাউজ চৌগাছার তাহেরপুরে খেজুরের গুড় থেকে ব্রাউন সুগার তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঐ কারখানার উৎপাদিত গুড় সে সময়ে ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে। পরবর্তীতে যশোরের বিভিন্ন গ্রামে ১১৭টি কারখানা গড়ে উঠে। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পর সাদা চিনির কাছে লালচে গুড় পরাজিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে যশোরে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫১৪টি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে প্রতি বছর চার হাজার ৬৪০ মেট্রিকটন গুড় ও ৪০ মেট্রিকটন রস উৎপান হয়।বংিশ শতাব্দরি প্রথম দকিে যশোররে “নোলনে গুড়” দয়িে বখ্যিাত সন্দশে তরৈি করা হতো যা কোলকাতায় এখনো একটি সুস্বাদু খাবাররে তালকিায় স্থান পায়। খজেুর হুড়রে হারানো ঐতহ্যি ফরিে পতেে এবং নতুন আঙ্গকিে বশ্বি দরবারে পরচিতি করার লক্ষ্যে খজেুর গুড়কে যশোররে জলো ব্র্যান্ডংি এর আওতায় নয়িে আসা হয়ছে।

যশোর জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশ নামের ভূখন্ডটি প্রাচীনকালে কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ইতিহাসে এসব রাজ্য ভাংগা, পান্ডু, সমতট, তাম্রলপি,ি বঙ্গ ইত্যাদি নামে পরিচিত। উক্ত সময়ে যশোর  তাম্রলপিওি ভাংগা রাজ্যের অর্ন্তভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়। গংগা নদীর পলল অবক্ষেপণেসৃষ্ট যশোর জেলার সবচেয়ে পুরাতন বিবরণ পাওয়া যায় টলেমির মানচিত্রে। মহাভারত,পুরান, বেদ ও আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে এ অঞ্চলের উল্লখে পাওয়া যায়। যশোর জেলার নামকরণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। যশোর নামের উৎপত্তি স¤পর্কে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলেছেন আরবি শব্দ ‘জেসিনরে’ থেকে যশোর নামের উৎপত্তি যার অর্থ সাকো। অনুমান করা হয় খানজাহান আলী বাঁশের সাকো নির্মাণ করে ভৈরব নদী পার হয়ে মুড়লীতে আগমন করেন বলে বাঁশের সাকো থেকে যশোর নামের উৎপত্তি।আবার কেউ বলেছেন যশোর শব্দ ‘যশোহর’ শব্দের অপভ্রংশ। যার অর্থ যশ হরণকারী ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান। গৌড়ের যশ হরণ করে এই শহরের শ্রীবৃদ্ধি হওয়ায় নাম হয় যশোর। নামের উৎপত্তি যাইহোক পরবর্তীকালে যশোর সহ সন্নিহিত অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগলিক ও বপ্লৈবকি ইতিহাস বহু উত্থান-পতন আর বৈচিত্রপূর্ণ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যশোর জেলার আজকের এই অবস্থান। চিরকালের আপোসহীন সংগ্রামী যশোরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইংরেজ শাসকগণ তাদের শাসন কাজের সুবিধার জন্য যশোরকে একটি ভূখন্ডে নির্দিষ্ট করে স্বতন্ত্র জেলায় রূপান্তরিত করে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উল্লখেযোগ্য এ জেলাটির মাধ্যমেই ১৭৮১ সালে বর্তমান বাংলাদেশে বৃটিশ প্রশাসনের প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৭৮১ সালে জেলা ঘোষণার পর প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন মি. টিলম্যান হেঙ্কেল (১৭৮১-১৭৮৯)। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের ফলে অবিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলকে করা হয় পাকস্তিানরে অংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলকে করা হয় ভারতের। এর মধ্যে সীমানারেখা নির্ধারণের ফলে যশোর জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের পরিবর্তন সাধিত হয়। এ সময় যশোরের বনগ্রাম মহকুমাকে ভারতের সাথে সংযুক্ত করা হয়। ১৯৮২ সালে সামরিক সরকার প্রধান জনাব এইচ এম এরশাদ থানাকে উপজেলায় এবং মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করেন যার ফলে ১ মার্চ ১৯৮৪ সালে মহকুমা হতে জেলায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে যশোর জেলায় ০৬ টি সংসদীয় আসন, ০৮ টি উপজেলা এবং ০৭ টি পৌরসভা রয়েছে । এ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে  মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (সাহিত্যিক) প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান (সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান) মো: রফিকউজ্জামান (গীতিকার),ববিতা (অভিনেত্রী), সুচন্দা প্রমুখ (অভিনেত্রী)। ইতিহাস আর ঐতিহ্যেবাহী যশোর জেলার দর্পণ হিসেবে ব্র্যান্ডংি নির্বাচন করা হয়েছে বাংলাদেশে ব্যতিক্রমি নানা রঙের ফুল এবং খেজুরের গুড় কে। জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে জেলা র্ব্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

কালক্টেরটে বিল্ডিং

উপমহাদেশের প্রথম কালেক্টরেট হিসেবে ১৭৮৬ সালে যাত্রা শুরু করা কালেক্টরেট ১৮৮৫ সালে বর্তমান স্থানে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮০ সালে দোতলা উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ লাভ করে। কালেক্টরেট ভবনটি যশোর শহরের দড়াটানায় অবস্থিত।  উপমহাদেশে বৃটিশ স্থাপনারগুলোর মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে প্রাচীনতম । ১৭৮১ সালে জেলা ঘোষণার পর প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন  করেন মি. টিলম্যান হেঙ্কেল (১৭৮১-১৭৮৯)। এই ভবনের সাথে জড়িয়ে আছে বৃটিশ ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত কর্মকর্তার নাম। অনন্য মহিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ভবনটি নিজেই যেন বৃটিশ শাসনের ২০০ বছরের একটি ইতিহাস;  রয়েছে প্রথম দেখায় চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো হাজারো উপাদান।  

জেলা প্রশাসকের পুরাতন বাসভবন

সাতক্ষীরা হাউজ নামে পরিচিত ১৮৯৫ সালে নির্মিত দেশের প্রথম কালেক্টরের বাসভবন যেন স্থাপত্য নিদর্শনের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য। দোতলা এ ভবন সংলগ্ন রয়েছে দিগন্ত বিসৃত এক মাঠ যার মোট জমির পরিমান ২৪.৭৫ একর।বহুল পরিচিত এই ডিসি বাংলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ডিসি বাংলো। তৎকালীন ভারত সম্রাট ১৯২১ সাল থেকে দু দফায় ২৫ বৎসরের জন্য এই জমি লীজ নেন যা  পরবর্তীতে কো¤পানিিট খরিদ সূত্রে ব্যাংক অব ক্যালকাটার অধিকার গ্রহণ করে। ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের অনুকূলে এর লীজ নবায়ন করতে না চাইলে ১৯৪৮ সালে তৎকালীন সরকার জনস্বার্থে ঐ স¤পত্তি অধিগ্রহণ করেন। ১১-৫-১৯৯৫ তারিখে ভবনটি স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের সরেজমিন পরিদর্শনে বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষিত হয়।ইতিহাসের  অন্যতম একটি অংশ সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করেছেন।

বেনাপোল স্থল বন্দর

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেনাপোল স্থল বন্দর যা শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বোপোলে অবস্থিত। স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের প্রায় ৯০%  এর  মাধ্যমে  সংঘটিত হয়।  স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস কাস্টমস্ ক্লিয়ারিং এজেন্টের কাজ। বেনাপোল হতে কলকাতা মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় স্থল পথে বাংলাদেশ থেকে  ভারত গমনের প্রধান পথ যশোর-বেনাপোল-বনগাঁ-কোলকাতা র্গ্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড রুট ব্যবহৃত হয়।

রিট্রিট সিরিমনি

রিট্রিট সিরিমনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ। সূর্যাস্তের সময় বেনাপোল সীমান্তরে শূন্য রেখায় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী মাথায় লাল হলুদ ডোরা ফুল পরে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে দুই দেশের পতাকা উত্তোল নের মাধ্যমে এই নয়নাভিরান সামরিক কুচকাওয়াজ প্রর্দশন করা হয়।

যশোররে জলো ব্র্যান্ডংি

একটি জেলার ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিবেচনায় রেখে জেলা র্ব্যান্ডিং এর বিষয় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।“নানা রঙের ফুলের মেলা খেজুর গুড়ে যশোর জেলা” ¯ে¬াগানের মধ্য দিয়ে যশোরের ঐতিহ্য আর সম্ভাবনার প্রতিকস্বরূপ র্ব্যান্ডিং হিসেবে ফুল এবং খেজুরের গুড় নির্ধারণ করা হয়েছে। যশোর জেলায় নানা রঙের ফুলের মেলার সূত্রপাত আশির দশকের শুরুতে। ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় শের আলী নামক জনৈক ব্যক্তি ১৯৮৩ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু করেন। ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পরে সারা যশোর। যশোর শহর থেকে ২৫/৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলাতেই মূলত ফুলচাষের মহাযজ্ঞ। সবুজের মাঝে সাদা রজনীগন্ধা আর লাল গোলাপ হলুদ গাঁদার চাদর পাতা মনমাতানো;সে এক অভুতপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য। বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠে মাঠে লাল, হলুদ, খয়েরী ও হলুদসহ রং বেরং এর বাহার। যতদূর চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। প্রায় একশো গ্রামে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হচ্ছে। এসব এলাকায় চাষ হচ্ছে রজনীগন্ধা, লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, কালো গোলাপ, হলুদ গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডওিলাস, জারবেরা, রথস্টিক, জিপসি, গ্যালেনডোলা, চন্দ্রমল্লকিা, লিলিয়াম, গাঁদা, জবা ও জুঁইসহ নাম না জানা আরো হরেক রকমের ফুল। তালিকাভুক্ত ৭০০০ ফুল চাষি হলেও প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষ ফুল বাণিজের সাথে জড়িত। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে ফুল। ফুলের মান বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, চাষিপর্যায়ে আধুনিক পদ্ধতি ও কলাকৌশলের জ্ঞানের অভাব, বিপনন ব্যবস্থার সহায়ক অবকাঠামো এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের মত আরো কিছু সমস্যা বিদ্যমান। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে কিছু ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ফুলচাষিদের ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দিচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব সমস্যা সমাধানকল্পে সরকারের কার্যকরি পদক্ষেপে যশোরের ফুলচাষ হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের আর এক সম্ভাবনাময় পণ্য।  যশোর জেলা র্ব্যান্ডিং এর আরেক পণ্যের নাম খেজুরের গুড়।“খেজুরের রস যশোরের যশ”। বাংলার মানুষের মুখরোচক প্রবাদ। ঐতিহাসিক সতীশ চন্দ্র মিত্রের 'যশোর খুলনার ইতিহাস'   গ্রন্থসূত্রে জানা যায় একসময় যশোর অঞ্চলের প্রধান কৃষিপণ্য ছিল খেজুরের গুড়। ১৯০০-০১ সালে পুরো বঙ্গে খেজুর চিনি উৎপাদিত হয়েছে ২১ লাখ ৮০ হাজার ৫৫০ মণ। এর মধ্যে কেবল যশোরেই উৎপাদিত হয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ মণ, যার দাম ছিল সেই আমলে ১৫ লাখ টাকা। আর বর্তমানে খেজুর গুড়ের বাণিজ্য দাড়িয়েছে বছরে প্রায় শত কোটি টাকা।  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলের মাটি সাধারণত বেলে দোঁ-আশ।মাটির অ¤¬ত্ব কম,পানিতে লবনাক্ততা নেই এবং এখানে বৃষ্টিপাতের হারও কম ।গাছের শিকড় অনেক নিচে পর্যন্ত যেতে পারে ফলে দেশের অদ্বিতীয় যশোরের খেজুরের রস সুগন্ধি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ তৈরি করে বিখ্যাত “পাটালি গুড়”। যশোর ব্যতিত বাংলাদেশের কোথাও এই গুড় পাওয়া যায় না। এই গুড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাইরে এর আবরণ থাকে শক্ত কিন্তু ভেতরটা গলে যাওয়া মোমের মত। এছাড়া যশোরের খেজুরে চিনির গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী।১৮৬১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ হাউজ চৌগাছার তাহেরপুরে খেজুরের গুড় থেকে ব্রাউন সুগার তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই চিনি সামান্য লালচে কিন্তু বর্তমানে আখের চিনির মত ঝরঝরে ছিল।ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, এক সময় চিনি ছিল যশোরের প্রধান অর্থকরী পণ্য। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ছাড়াও বাদামী চিনি  রফতানি হত ইউরোপে।আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান ব্যবহার করে যদি বাণিজ্যকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদন করা সম্ভব হয় তাহলে  যেমন অতিতের মতো ইউরোপে বাজারজাত করা সম্ভব হবে তেমনি যশোরের গুড় ফিরে পাবে তার ঐতিহ্য।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি

কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে কপোতাক্ষ নদে তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। কয়েকটি পুরনো দ্বিতল ও একতলা ভবন আছে এ বাড়িতে। বর্তমানে এ বাড়িতে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাদুঘরে আছে কবি পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র।

মির্জানগর হাম্মামখানা

সম্রাট আকবরের সময় (১৬৩৯-৬০) বাংলার সুবাদার শাহ সুজার শ্যলকপুত্র সফসি খাঁন ১৬৪৯ সালে এই হাম্মামখানাটি নির্মাণ করেন। পূর্ব পশ্চিমে চারকোনাবিশিষ্ট আয়তকার। এই হাম্মামখানাটি মোঘল শৈলির অনুকরণে নির্মিত।

মধুমেলা

মধুমেলা যশোরের ঐতিহ্যের অন্যতম একটি অংশ। প্রতিবছর মধুসূদনের জন্মবার্ষিকীতে অর্থাৎ জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কথিত আছে কবির মৃত্যুর পর তার ভাইয়ের মেয়ে কবি মানকুমারি বসু ১৮৯০ সালে কবির প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন সাগরদাঁড়িতে। সেই থেকে শুরু হয় মধুমেলার।মধুমেলা বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ মেলাও বটে কারণ এই মেলায় প্রতি বছর প্রায় বিভিন্ন ধরণের ৩০০-৪০০ স্টল অংশগ্রহণ করে।  গ্রামের মেলায় যা যা থাকে মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। মেলার মূল আকর্ষণ  বভিন্নি জলো থকেে আগত  সাংস্কৃতকি দলরে অংশগ্রহনে  সাংস্কৃতিক ও নাট্যানুষ্ঠান।

ব্র্যান্ডংি পণ্যে সাফল্য

শরে আলী সরদার। একজন সফল ফুলচাষ। বাড়ি ঝকিরগাছা উপজলোর পানসিারা গ্রাম। ফুলচাষি হসিবেে পয়েছেনে দেশি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত। কিন্তু তার শুরুটা ছিল অনেকটা সাদামাটাভাবে। ৮০-র দশকের মধ্যভাগ ১ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা ফুল চাষের মধ্যে দিয়ে এদেশে বাণিজ্যিক ফুলচাষের গোড়াপত্তন করেন। তাকেই পুরোধা বলতে হয় ফুল বাণিজ্যের। শের আলী উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ফুলচাষের সাফল্য দেখে। তখন দেশের ফুলের বাজার দখল করে ছিল ভারত, থাইল্যান্ড, চীনসহ অন্যান্য দেশ। খুব বেশি চাহিদা ছিল না ফুলের। আশির মাঝামাঝিতে বাণিজ্যিক ফুল চাষের অল্প-স্বল্প সাড়া জাগতে থাকে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা সদর থেকে দিনে দিনে শার্শা, চৌগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুরে খুব সীমিত পরিসরে ছড়িয়ে যেতে থাকে ফুল চাষ। কেউ কেউ সফল হন, কেউ কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যান স্বাভাবিক চাষাবাদে। একদিকে সম্ভাবনা আরেক দিকে প্রতিবন্ধকতা। এ রকম আশা-নিরাশার মধ্যেই শের আলী চালিয়ে গেছেন তার তপস্যা।প্রথমদিকে গাঁদা, গোলাপ ও রজনীগন্ধা দখল করতে থাকে আবাদি ক্ষেত। দিনের পর দিন বাড়তে থাকে আবাদি ক্ষেতে ফুলের বৈচিত্র্য। ফুলচাষের সাফল্যে উতসাহিত হয়ে একের পর এক নতুন নতুন ফুলের চারা এনে চাষ করছেন। ২০০৯ সালে জারবেরা চাষের সাফল্যের দুই বছর পর এনেছেন লিলিয়াম। অবশ্য এ ফুলের সম্প্রসারণ এখনও ব্যাপকতা পায়নি। একইসাথে থাইল্যান্ড থেকে অর্কিডের টিস্যু কালচারের চারা আনা হয়েছে। এর মান ঢাকার বাজারের অর্কিডের চেয়েও ভালো হবে বলে আশাবাদী শের আলী সরদার।এক সময় যে কৃষক ফসল আবাদ করত শুধুই তার বেঁচে থাকার চিন্তায়। এখন সে কৃষক মিলিত হয়ে গেছে বিশ্বায়নের সঙ্গে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষের পথিকৃত শের আলীর এখন সব খরচ বাদে বছরে লাভ থাকে ২০ লক্ষাধিক টাকা। হয়েছেন কোটিপতি কৃষক। ঘুরেছেন বিশ্বের ১৮টি দেশ।এই চাষকে শিল্পে রূপান্তর করার জন্য শের আলীর মতো আরো হাজারো কৃষকের চাওয়া সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক গবেষণা কেন্ত্র স্থাপন, ফুল রপ্তানি নীতিমালা এবং  নির্মল ফুলচাষবান্ধব একটি পরিবেশ।

পীড় মহেরেুদ্দনি (রাঃ) এর মাজার

মাজারটরি বয়স প্রায় ৩০০ বছর। কথতি আছে পীর মহেরেুদ্দনি (রাঃ)  খান জাহান আলী (রাঃ) এর সমসাময়কি পীর। ৩.২১ একর জমরি উপর প্রতষ্ঠিতি মাজারটরি বশিষে আর্কষণ এর চারদিকিে বসিৃত শতর্বষি বট গাছরে সমারোহ।

কশেবপুররে কালোমুখ হনুমান

বরিল প্রজাতরি কালোমুখ হনুমান বাংলাদশেে এ প্রায় বলিুপ্তরি পথ। শুধু কশেবপুর সদর এলাকা, ব্রক্ষকাঠ,ি রামচন্দ্রপুর, বালয়িাডাঙ্গা এবং র্পাশ্বর্বতী মনরিামপুররে র্দুগাপুর গ্রামে এই হনুমান দখো যায়। ইংরজেতিে এর  নাম কমনলঙ্গেুর।র্বতমানে এদরে সংখ্যা প্রায় ৫শ। ধারণা করা হয় শত শত বছর যাবত এই এলাকায় কালোমুখ হনুমান রয়ছে।

এগারো শবি মন্দরি

সতরেো শতকরে মাঝামাঝতিে নর্মিতি বাংলাদশেরে প্রত্নতাত্ত্বকি স্থাপনার এক অনন্য সৌর্ন্দয অভয়নগর উপজলোর এগারো শবি মন্দরি ।দযে়ালে পোড়ামাটরি ফলক ও অনন্দ্যিসুন্দর কারুকাজ যে কোন মানুষরে মন করে নেবে।

 


জেলা ব্র্যান্ডিং এর কর্মপরিকল্পনা


জেলা ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়নে ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনাঃ

           ১। জেলা ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়ন বিষয়ক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন এবং কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব বিভাজন করা হবে।
           ২।       জেলা ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়ন বিষয়ক কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক প্রতিমাসে ১ টি করে সভা করা হবে।
           ৩।      উপজেলা পর্যায়েও জেলা ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়ন বিষয়ক উপকমিটি গঠন করা হবে।
           ৪।      জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়নের স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আর্থিক সংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

৫।       জেলা-ব্র্যান্ডিং এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল সম্পর্কে সবাইকে সুষ্পষ্ট ধারণা দেবার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

6।      জেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের সামনে লোগো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ডায়রী, খাতা ও অন্যান্য উপকরণে লোগো ব্যবহার।

৭।       জেলা প্রশাসন সহ অন্যান্য সরকারী অফিস সমূহের যাবতীয় প্রিন্টিং ম্যাটেরিয়ালে লোগো ব্যবহার করা।
 আন্তঃজেলা গণপরিবহনসমূহে লোগো ব্যবহার করা।

৮।      যশোর জেলা ও উপজেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে লোগো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।

৯ ।      যশোর জেলার দর্শনীয় স্থান যেমনঃ বেনাপোল স্থলবন্দর, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি ইত্যাদি স্থানে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং খেজুর গুড়, নকশি কাঁথা ও ফুল প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা।

১০।      নতুন করে খেজুর গাছ রোপন উৎসব এর ব্যবস্থা করা এবং জেলার সেলিব্রেটিদের এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো।

১১।     বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানের সাইনবোর্ডে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা।

১২।     যশোর জেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ফেইস বুক প্রোফাইল পিকচার অন্ততঃ ০১ (এক) মাস জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো ব্যবহার করা।

১৩।     মানসম্মত নকশি তৈরীর প্রকল্প গ্রহনের জন্য জেলায় কর্মরত এনজিওসমূহকে উদ্বুদ্ধ করা।

             ১৪।     জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো সম্বলিত মগ ও টি শার্ট তৈরী করে তা বিতরণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

             ১৫।     জেলা ব্র্যান্ডিং এর লোগোটি শহরের জনসমাগম বেশি হয় এ রকম স্থানে প্রদর্শন করা হবে।
             ১৬।     ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে খেজুর গুড়, নকশী কাঁথা বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

              ১৭।     জেলা ব্র্যান্ডিং এর বিষয় ও তাৎপর্য স্হানীয় প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রচার।

              ১৮।     ফুল চাষী, নকশী কাঁথা শিল্পী ও খেজুর গাছ চাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করা।

              ১৯।     ঝিকরগাছায় একটি ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্হাপনে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ।

              ২০।     জেলা ব্রান্ডিং সংশ্লিষ্ট কাজে উৎসাহিত করার জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান।

  ২১।     জেলা ব্রান্ডিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যাতে মান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন কিংবা পণ্য উৎপাদনে উদ্ভাবিত সমস্যা সমাধান করতে পারেন সে মর্মে ব্যবস্হা গ্রহণ। যেমন: পণ্য  উৎপাদনকারীদের সমস্যা সমাধানে ফ্রি এস.এম.এস সুবিধা চালুকরণ।

  ২২।     জেলা ব্রান্ডিং এ উৎপাদিত পণ্যের বিদেশী বাজার সৃষ্টিতে কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ।

              ২৩।     উৎপাদিত পণ্যের গুনগতমান নিশ্চিত করার জন্য স্হানীয়ভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা।

  ২৪।     জেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাকেট ও পণ্যের মোড়কে জেলা ব্রান্ডিং লোগো ব্যবহার করা।

   ২৫।     স্হানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন/ সাংস্কৃতিক জোট এর মাধ্যমে জেলা ব্রান্ডিং নিয়ে স্হানীয়ভাবে গান/ ডকুমেন্টারি/ প্রামাণ্য চিত্র প্রনয়ণপূর্বক স্হানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়াসমূহে প্রচার।

             ২৬।     তৃণমূল পর্যায়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ব্রান্ডিং সম্পর্কে প্রচারণা।

২৭।     সকল গণপরিবহনে (বাস, ট্রাক, রিক্সা, ইজিবাইক প্রভৃতি) ব্রান্ডিং সংক্রান্ত লিফলেট, পোস্টার, প্যানা টানিয়ে প্রচার করা।

২৮।     স্কুল ও কলেজসমূহে শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা ব্রান্ডিং এর তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রেণিকক্ষে আলোচনাপূর্বক শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা প্রদান।

২৯।     জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানগণ কর্তৃক অধীনস্হ দপ্তরসমূহ দর্শন/ পরিদর্শনকালে জেলা ব্রান্ডিং সম্পর্কে আলোচনা করা।

৩০।     শহরের সকল প্রবেশ দ্বার, জনবহুল স্হানসমূহ ( বাস টার্মিনাল, হাসপাতাল, কোর্ট চত্বর প্রভৃতি) এবং সকল জেলা পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, সকল পৌরসভা, সকল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দর্শনীয় স্হানসমূহে জেলা ব্রান্ডিং লোগো সম্বলিত সাইনবোর্ড  স্হাপন করা।

৩১।     বেনাপোল সীমান্তে জেলা ব্রান্ডিং লোগো সম্বলিত বৃহৎ আকৃতির  সাইনবোর্ড  স্হাপন করা যেতে পারে। এর ফলে ভারত- বাংলাদেশে গমনা-গমনকারী জনগণ এ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। ফলে যশোর জেলা ব্রান্ডিং দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।





Share with :

Facebook Twitter